শ্রীরামপুর মিশন ও বাংলা গদ্য চর্চা - সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং উত্তর (পর্ব - ৩) 



বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা স্নাতক সাম্মনিক পাঠক্রমের তৃতীয় পাঠ পর্যায়ের কোর কোর্স- ৫ (উনিশ-বিশ শতকের প্রবন্ধ ও কাব্য সাহিত্যের ইতিহাস এবং আখ্যান সাহিত্য  পাঠ) এবং তৃতীয় পাঠ পর্যায়ের কোর্স - ১ জেনেরিক বাংলা (বাংলা প্রবন্ধ ও কথাসাহিত্যের ধারা এবং প্রবন্ধ পাঠ)-এর জন্য নির্বাচিত শ্রীরামপুর মিশন পাঠ্য তালিকায় রয়েছে।

(Course/ Study Material for BENGALI Honours - 3rd Semester, Core Course-5 & BENGALI Generic (GE-3) - 3rd Semester, Course-1) 


         প্রশ্ন – প্রথম প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র কোনটি? এটি কবে, কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
         উত্তর – প্রথম প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র হল ‘দিগদর্শন’। এটি ১৮১৮, এপ্রিল মাসে শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত হয়।
         প্রশ্ন – ‘দিগদর্শন’ কী জাতীয় পত্রিকা ছিল?
         উত্তর – ‘দিগদর্শন’ ছিল স্কুল-পাঠ্য মাসিক পত্রিকা।
         প্রশ্ন – ‘দিগদর্শন’-এর সম্পাদক কে ছিলেন?
         উত্তর – ‘দিগদর্শন’-এর সম্পাদক ছিলেন মার্শম্যান।
         প্রশ্ন – ‘সমাচার দর্পণ’ কবে, কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
         উত্তর – ‘সমাচার দর্পণ’ – ১৮১৮, মে মাসে শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত হয়।
         প্রশ্ন – ‘সমাচার দর্পণ’-এর সম্পাদক কে ছিলেন?
         উত্তর – ‘সমাচার দর্পণ’-এর সম্পাদক ছিলেন মার্শম্যান।
         প্রশ্ন – ‘সমাচার দর্পণ’-এর সহযোগী সম্পাদক কারা ছিলেন?
         উত্তর – ‘সমাচার দর্পণ’-এর সহযোগী সম্পাদক ছিলেন জয়গোপাল তর্কালঙ্কার এবং তারিণীচরণ শিরোমণি।  
         প্রশ্ন – শ্রীরামপুর মিশনের সৃষ্ট বাংলা গদ্যের নমুনা লেখো।
         উত্তর – শ্রীরামপুর মিশনের সৃষ্ট বাংলা গদ্যের নমুনা – “খ্রীস্টের স্বর্গে গমনের পরে মঙ্গল সমাচার প্রকাশ হইল প্রায় সকল সংসারে। তাঁহার অনেক শিষ্যেরা তাহা প্রকাশনের কারণ বধ পাইল। য়িরোশালমও ধ্বংস হইল এবং য়িহোদী বর্ণ ছাড়িয়া গেল সর্ব পৃথিবীতে।”
         প্রশ্ন – শ্রীরামপুর মিশনের সৃষ্ট বাংলা গদ্য কী নামে আখ্যাত হয়েছিল?
         উত্তর – শ্রীরামপুর মিশনের সৃষ্ট বাংলা গদ্য ‘শ্রীরামপুরী বাংলা’ বা ‘খ্রিস্টানি বাংলা’ নামে আখ্যাত হয়েছিল।
         প্রশ্ন – বাংলা গদ্য চর্চায় শ্রীরামপুর মিশনের অবদান কী ছিল?
         উত্তর – বাংলা গদ্য চর্চায় শ্রীরামপুর মিশনের অবদান বা গুরুত্ব ছিল সুদূরপ্রসারী।
(১) বাইবেলসহ বিভিন্ন গ্রন্থের অনুবাদ বাংলা গদ্যের বিকাশে সহায়ক হয়েছে।
(২) রামায়ণ, মহাভারত ইত্যাদি ধ্রুপদী সাহিত্য বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়।
(৩) মিশন প্রকাশিত সাময়িক পত্র বা সংবাদপত্র বাংলা গদ্যভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে।
(৫) মিশনে প্রেস বা মুদ্রণ যন্ত্রের প্রতিষ্ঠা বাংলা সাহিত্যের প্রচার, প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে সহায়ক হয়েছে।
(৬) মিশন পরোক্ষে বাঙালি জাতির মধ্যে পরোক্ষে আত্মসচেতনতা বৃদ্ধি করেছে।