মহুয়া
(প্রাচীন
পল্লীনাটিকা)
দ্বিজ
কানাই প্রণীত
পূবেতে
বন্দনা করলাম পূবের ভানুশ্বর।
এক দিকে
উদয়রে ভানু চৌদিকে পশর।।
দক্ষিণে
বন্দনা গো করলাম ক্ষীর নদী সাগর।
যেখানে
বাণিজ্জি করে চান্দ সদাগর।।
উত্তরে
বন্দনা গো করলাম কৈলাস পরবত।
যেখানে
পড়িয়া গো আছে আলীর মালামের পাথর।।
পদচিহ্ন
হেন পশ্চিমে বন্দনা গো করলাম মক্কা এন স্থান।
উরদিশে
বাড়য় ছেলাম মমিন মুসলমান।।
সভা কইর্যা
বইছ ভাইরে ইন্দু* মুসলমান।
সভার
চরণে আমি জানাইলাম ছেলাম।।
চাইর
কুনা* পিরথিমি গো বইন্ধ্যা* মন করিলাম স্থির।
সুন্দর
বন মুকামে বন্দলাম গাজী জিন্দাপীর।।
আসমানে
জমিনে বন্দলাম চান্দে আর সুরুষ।
আলাম-কালাম
বন্দুম কিতাব আর কুরাণ।।
কিবা
গান গাইবাম আমি বন্দনা করলাম ইতি।
উত্তর্যা
না গারো পাহাড় ছয় মাস্যা পথ।
তাহার
উত্তরে আছে হিমানী পর্বত।।
হিমানী
পর্বত পারে তাহারই উত্তর।
তথায়
বিরাজ করে সপ্ত সমুদ্দর।।
চান্দ
সুরুয নাই আন্দারিতে* ঘেরা।
বাঘ ভালুক
বইসে মাইন্সের* নাই লরাচরা*।।
বনেতে
করিত বাস হুমরা বাইদ্যা নাম।
তাহার
কথা শুন কইরে ইন্দু মুসলমান।।
ডাকাতি
করিত বেটা ডাকাইতের সর্দ্দার।
মাইন্কা
নামে ছুডু* ভাই আছিল তাহার।।
ঘুরিয়া
ফিরিয়া তারা ভ্রমে নানান দেশ।
অচরিত*
কাইনী* কথা কইবাম সবিশেষ।।
আর ভর্মিতে* ভর্মিতে তারা কি কাম করিল।
ধনু নদীর
পারে যাইয়া উপস্থিত অইল।।
কাঞ্চনপুর
নামে তথা আচিল* গেরাম।
তথায়
বসতি করত বিৰ্দ্দ* এক বরাম্মন*।।
ছয় মাসের
শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।
রাত্রি
নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরি।।
চুরি
না কইর্যা হুমরা ছারা* গেল দেশ।
কইবাম
সে কন্যার কথা শুন সবিশেষ।।
ছয় মাসের
শিশু কন্যা বচ্ছরের হৈল।
পিঞ্জরে
রাখিয়া পঙ্খী পালিতে লাগিল।
এক দুই
তিন করি শুল* বছর যায়।
খেলা
কছরত* তারে যতনে শিখায়।।
সাপের
মাথায় যেমন থাইক্যা জ্বলে মণি।
যে দেখে
পাগল হয় বাইদ্যার নন্দিনী।।
বাইদ্যা
বাইদ্যা করে লোকে বাইদ্যা কেমন জনা।
আন্দাইর*
ঘরে থুইলে কন্যা জ্বলে কাঞ্চা সোনা।।
হাট্টীয়া
না যাইতে কইন্যার পায়ে পরে চুল।
মুখেতে
ফুট্টা উঠে কনক চাম্পার ফুল।।
আগল ডাগল*
আখিরে আসমানের তারা।
তিলেক
মাত্র দেখলে কইন্যা না যায় পাশুরা*।।
বাইদ্যার
কন্যার রূপে ভাইরে মুনীর টলে মন।
এই কইন্যা
লইয়া বাইদ্যা ভরমে তিরভুবন।।
পাইয়া
সুন্দরী কইন্যা হুমরা বাইদ্যার নারী।
ভাব্যা
চিন্তা নাম রাখল মহুয়া সুন্দরী।।

0 মন্তব্যসমূহ